শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
বরিশাল রিপোর্ট ডেস্কঃ ‘পৃথিবীতে মা ছাড়া আমার কেউ নেই। গত বছর প্রথম রমজানে আমার আব্বা মারা যান। এখন আমার পুরো পৃথিবী মাকে ঘিরে।’ কথাগুলো বলছিলেন নিজের শরীরে অক্সিজেনের সিলিন্ডার বেঁধে করোনা আক্রান্ত মাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবক জিয়াউল হাসান।
জিয়াউল হাসান ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি ঝালকাঠি জেলা সদরের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক শাখার সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত রয়েছেন। তার ছোট ভাই রাকিব হাসান চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে লেখাপড়া করেন। আর সবার বড়ভাই মেহেদী হাসান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের দৌলতপুর থানায় উপপরিদর্শক পদে কর্মরত রয়েছেন।
জিয়াউল হাসানের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাকিম মোল্লা। তিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার। ২০২০ সালের প্রথম রমজানে হাকিম মোল্লা মৃত্যুবরণ করেন। নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সূর্যপাশা গ্রামের বাসিন্দা তারা। মা রেহানা পারভীন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
মা রেহানা পারভীন (৪৮) ১০ দিন ধরে অসুস্থ। করোনার সবগুলো উপসর্গ তার শরীরে রয়েছে। করোনা আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে যান মায়ের করোনা পরীক্ষা করাতে। কিন্তু ১০ দিন পার হলেও পাননি পরীক্ষার ফলাফল।
জিয়াউল হাসান
এদিকে, মায়ের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করেন। সেখানে অক্সিজেন শেষ হওয়ার উপক্রম হলে দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন মাকে যে করেই হোক চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু গাড়ি না পাওয়ায় শেষে নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে নেন জিয়াউল। তখনো মায়ের মুখে অক্সিজেন মাস্ক। পাশে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছোট ভাই রাকিব। সন্ধ্যার আগে তারা এসে পৌঁছান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। বর্তমানে তার মা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা হয় জিয়াউল হাসানের। তিনি জানান মায়ের চিকিৎসার জন্য সংগ্রামের গল্পগুলো।
করোনা শনাক্তে হয়রানি
জিয়াউল হাসান বলেন, এর পেছনে একটু কষ্টের কথা আছে। বিগত ১০ দিন মায়ের ১০৪/৫ ডিগ্রি জ্বর, কাশি, সর্দি, শরীর ব্যথা ও পাতলা পায়খানা ছিল। শনিবার (১০ এপ্রিল) নলছিটি হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দিয়ে আসি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সেই স্যাম্পলটি বরিশাল পাঠিয়েছেন। বরিশাল থেকে সম্ভবত ঢাকা পাঠানো হয়েছে। সেটি ওনাদের ধারণা। কিন্তু সেই স্যাম্পলের রেজাল্ট আমরা আজ পর্যন্ত পাইনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভরসা করতে না পেরে বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলে আসি। এখানে স্যাম্পল দেই এবং এক আত্মীয়ের (জেলা প্রশাসক) সুপারিশে করোনা পরীক্ষা দ্রুত করানো হয়। শনিবার রাত ১২টার দিকে মুঠোফোনে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। পিসিআর টেস্টের রেজাল্ট পায়নি উল্লেখ করে বলেন, তবে রেন্টিজেন্ট পরীক্ষায় পজিটিভ আসায় বৃহস্পতিবার বাসায় একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে গিয়েছিলাম।