শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
বরিশাল রিপোর্টঃ করোনা ভাইরাস এর পরিস্থিতি নিয়ে যখন সারা বিশ্ব এখন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে বিরাজমান। বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত দিন দিন আশংকাজনক হারে বেড়ে চলছে করোনা রোগীর সংখ্যা। তাই বাংলাদেশ সরকার ০৫ই এপ্রিল থেকে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনা করেছেন।
লকডাউনে কিভাবে চলতে হবে তার একটি প্রজ্ঞাপন জারী করে দিয়েছেন সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বরিশাল ০৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত মেয়র, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল জেলা প্রশাসক, বরিশাল পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ববৃন্দ ও সুশিল সমাজের নেতৃত্ববৃন্দ সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে দিন রাত জনগনের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি ও সরকার ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে করে করোনা ভাইরাস সংক্রমন এর হাত থেকে বরিশালবাসীকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
কিন্তু এরই মাঝে ভিন্নতা পাওয়া গেছে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার এর আওতাধীন বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রার এর কার্যালয়ে ।
সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপনের নিয়ম কানুন পালন করার বিন্দুমাত্র লক্ষন হুশ জ্ঞান নেই। নিয়ম পালন ও সচেতনার তোয়াক্বা না করার কারনে বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা মানুষের নিয়ন্ত্রনহীন উপচে পড়া ভিড় । আর এর থেকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়িয়ে পড়তে পারে বরিশালে। তাদের একটু খামখেয়ালীপনার কারনে মৃত্যুপুরীতে পরিনত হতে পারে বরিশাল । নিলুফা নামের এক নারীর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন যেখানে করোনা ভাইরাসের জন্য সরকার অনেক গুলো পদক্ষেপ নিছে তার একটাও এই নিয়ম নিতী নাই এই অফিসে। বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী জনাব মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু ও ১ম পেশকার জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির এর সাথে আলোচনা করে জানা যায় নিয়মিত ভাবেই দায়িত্ব পালন করতে ছিলেন সদর সাব রেজিস্ট্রার মোঃ ইউসুফ আলী মিয়া কিন্তু হঠাৎ করে গতমাসের ৩০শে মার্চ তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরেন এরপর থেকেই তিনি এখন পর্যন্ত ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।
যেখানে জেলা রেজিস্ট্রার বরিশাল পথিকার কুমার সাহার বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস কমপক্ষে ১৪ দিন লকডাউন দেয়া উচিত ছিল করোনা ভাইরাস সংক্রমন পর্যবেক্ষন ও এড়ানোর জন্য কিন্তু জেলা রেজিস্ট্রার বরিশাল পথিক কুমার সাহা তা না করে এরই মাঝে বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পাতারহাট সাব রেজিস্ট্রার বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাসকে বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে খন্ডকালীন সাব রেজিস্ট্রার এর দায়িত্ব পালন করার জন্য আদেশ করেছেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে মৌখিকভাবে একাধিক ব্যক্তিবর্গ বলেছেন এটা শুধুমাত্র (জেলা রেজিস্ট্রার) দলিল রেজিস্ট্রি প্রতি তার নামে ১০০ টাকা চাঁদা আদায় ও খন্ডকালীন সদর সাব রেজিস্ট্রার বরিশাল এর আদায়কৃত ঘুষের টাকা থেকে বাড়তি টাকার ভাগ পাওয়ার জন্য এই কাজটি করেছেন।
ফেলে দিয়েছেন দলিল লেখক, নকল নবিস, তল্লাশকারক ও দলিল রেজিস্ট্রি করেতে আসা সাধারন মানুষকে করোনা ভাইরাস সংক্রামনের ঝুকির দিকে যেহেতু বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রার মোঃ ইউসুফ আলী মিয়া অফিস থেকেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন তাই অন্ততপক্ষে ১৪ দিন অত্র কার্যালয়ের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য একাধিক ব্যক্তির।
এছাড়াও অত্র কার্যালয়ের কর্মচারীরা নিজেরাও এখন করোনা ভাইরাস সংক্রমন হওয়ার আতংকে আতংকিত আছেন বলে মত প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নেপথ্য থাকা জেলা রেজিস্ট্রার বরিশাল পথিক কুমার সাহা এর বক্তব্য নিতে গেলে তাকে অফিসে অনুপস্থিত পাওয়া যায় । কিন্তু তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী জনাব হালিম সিপাহী বলেছেন তিনি নাকি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে মিটিংয়ে আছেন পরবর্ততে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোজ নিয়ে জানা যায় এ রকম কোন মিটিং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আজ অনুষ্ঠিত হয়নি।
যেখানে জেলা রেজিস্ট্রার বরিশাল পথিক কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে জেলা রেজিস্ট্রার বরিশালের মুঠোফোনে এই ০১৫৮০৫৪৩০৬১ নাম্বার থেকে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।